
বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনকে অবহিত করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ফেসবুক পোস্ট এবং প্রকাশিত ছবির ভাষা অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন নিরাপদ ও সুষ্ঠু করতে নেওয়া উদ্যোগগুলো তুলে ধরা হয় এই বৈঠকে।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন এ বিষয়ে সরাসরি জানার সুযোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বলে দূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়। বার্তাটি স্পষ্ট—সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়, বাস্তব চিত্র কি এই আশ্বাসের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে?
সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক সহিংসতা, মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন, বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে সরকারের এই বক্তব্যকে অনেকেই কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছেন। বিশেষ করে পশ্চিমা কূটনীতিকদের কাছে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিয়ে ইতিবাচক ছবি তুলে ধরার চেষ্টা চলছে—এমন ধারণা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশের।
ছবির ভাষাও গুরুত্বপূর্ণ। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রদূতের বৈঠকটি ছিল আনুষ্ঠানিক, নিয়ন্ত্রিত এবং বার্তা-নির্ভর। এখানে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা নয়, বরং সরকারের প্রস্তুতি, সদিচ্ছা এবং নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতাই সামনে আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পোস্টেও কোনো প্রশ্ন, শর্ত বা উদ্বেগের উল্লেখ নেই—যা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ হলেও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা দেয় না।
এদিকে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা, বিরোধী দলের কর্মসূচিতে বাধা, সাংবাদিকদের ওপর চাপ এবং ভোটের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগের খবর একেবারে উধাও নয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি “স্বাভাবিক” বলা হলেও সেটি কতটা টেকসই এবং ভোটের দিন পর্যন্ত বজায় থাকবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক ও বার্তা মূলত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করার একটি প্রচেষ্টা। তবে নির্বাচন কেবল কাগজে-কলমে বা ব্রিফিংয়ে নিরাপদ হলেই গ্রহণযোগ্য হয় না। প্রকৃত পরীক্ষাটা হবে ভোটের দিন—ভোটাররা কতটা নির্ভয়ে কেন্দ্রে যেতে পারেন, সব দলের জন্য মাঠ কতটা সমান থাকে এবং সহিংসতা বা ভয়ভীতি কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
সুতরাং রাষ্ট্রদূতকে দেওয়া আশ্বাস আর মাঠের বাস্তবতার মধ্যকার এই ফাঁকটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। নির্বাচনের ফলের মতোই, এই প্রশ্নের উত্তরও মিলবে সময়ের আগেই?